ইতিহাসের পাতায় মক্কার কুসাই ইবনে কিলাব এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি কেবল একজন নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক অনন্য শাসনব্যবস্থা, যার নাম ‘দারুন নাদওয়া’ বা বর্তমান যুগের পার্লামেন্ট হাউসের আদিরূপ। ভাবলে অবাক হতে হয় যে, সেই প্রাচীন সময়েও তাদের দপ্তরগুলো কত সুশৃঙ্খল ছিল।
সেখানে রিফাদাহ নামের একটি বিভাগ ছিল, যার কাজ ছিল হাজীদের অভ্যর্থনা জানানো এবং তাদের রসদ সরবরাহ করা। আবার পানির ব্যবস্থাপনার জন্য ছিল সিকায়াহ বিভাগ। এমনকি যুদ্ধের ময়দানে কে পতাকা বহন করবে, তার জন্য ছিল লিওয়া নামের আলাদা দপ্তর। সমাজ ছিল গোত্রতান্ত্র্রিক, তাই কেউ অপরাধ করলে তাকে ‘আত তারিদ’ বা সমাজচ্যুত করার বিধানও ছিল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো শিয়াবে আবু তালিবের ঘটনা। বনু হাশেম গোত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সেই ৩ বছরের বয়কট যেন বর্তমান যুগের আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বা স্যাংশনের মতোই কঠোর ছিল।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ ছিল ভয়াবহ অন্ধকার। ঐতিহাসিক খোদা বক্সের মতে, সেই সমাজের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি জিনিস: যুদ্ধ, নারী এবং সুরা। নারীদের অবস্থা ছিল করুণ। পতাকাধারী নারীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো হতো, এমনকি বীর সন্তান লাভের আশায় নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের কাছে পাঠানোর মতো জঘন্য প্রথাও চালু ছিল। সৎ মাকে বিয়ে করা কিংবা বোনকে বিয়ে করার মতো ঘটনাও ছিল সাধারণ।
সেই সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ছিল মূলত বাণিজ্য ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। বেদুইন ও শহরের জীবনের মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল তফাত। এই অন্ধকারের বুক চিরে আলোর অপেক্ষায় ছিল মক্কা।
#activealamin #Digital_marketing #Lifeskills #softskills #marketing #metaMarkeitng #consultant #Marketer #History #Jahiliyyah #SocialHistory #AncientArabia