অকারণে ভালোবাসার নাম এমিলী

নারী দিবসে মানুষ সাধারণত নারীদের শক্তি, সংগ্রাম আর সাফল্যের কথা বলে। কিন্তু আজ আমি খুব বড় কোনো তত্ত্ব বলতে চাই না। আমি শুধু একটা মেয়ের সাধারণ গল্প বলতে চাই, যে মেয়েটা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। যাকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।

একডেমিক ছাত্রজীবন শেষে একটা সময় ছিল যখন আমার হাতে কিছুই ছিল না। এখনো যে অনেক কিছু আছে তা নয়, কিন্তু তখন শূন্যতা ছিল সংখ্যা রেখায় সবার আগে। সোশ্যাল স্ট্যাটাস, না বড় কোনো প্রতিষ্ঠিত চাকরিতে অবস্থান, না বড় কোনো নিরাপত্তা। নিরাপত্তাটাই আসল, যেটা একদমই ছিল না। 

ছিল শুধু বিশ্বাস। এমন বিশ্বাস, যেখানে ঘর বাঁধা যায়।

সেই সময়টায় অনেকেই দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছে, গুটিকয়েক মানুষ হেল্প করেছে। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছে, কেউ কেউ সন্দেহ করেছে, কেউবা ভবিষ্যৎদ্বাণী দিয়েছে জায়গার মাল জায়গায় চলে আসবে বলে। কিন্তু এমিলী এমন একটা মেয়ে ছিল, যে আমার শূন্য হাতটাই ধরে ফেলেছিল। হিসাব করে না, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেখে না, সমাজের ভয় পেয়ে, সোশ্যাল কিংবা ডেজিশনাল স্ট্যাটাস না পেয়ে শুধু আমার আইডেন্টিটিকে চিনে সে শুধুই মানুষটাকে বিশ্বাস করেছিল।

এটাই হয়তো একজন নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি, সে বিশ্বাস করতে পারে। এমিলী আমার জীবনে শুধু একজন স্ত্রী না। সে আমার জীবনের একজন নীরব সহযাত্রী, বন্ধু, সহপাঠী ও একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী। আমি হয়তো তাকে খুব বেশি প্রশংসা করি না। অনেক সময় তার ছোট ছোট কাজগুলোর স্বীকৃতি দিতে পারি না। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমার জীবনে আমি যত মানুষকে ভালোবেসেছি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা এই মেয়েটার জন্যই।

আমি তাকে স্টাডি করি। তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা, রাগ, অভিমান সবকিছু বুঝতে চেষ্টা করি। কোনো সময় এসব কাজে লাগে, কোনো সময় কোনো কাজেই লাগে না। তারপরেও সে আমার একটা ডায়নামিক বই। কারণ মানুষকে ভালোবাসার একটা বড় উপায় হলো তাকে বোঝার চেষ্টা করা। আর ভালোবাসার জন্য কোনো কারণ লাগে না এটা সত্য কথা।

মজার ব্যাপার হলো, সে প্রায়ই আমাকে এমন সব গিফট কিনে দেয়, যা হয়তো আমি চাইনি, কিন্তু আমার দরকার ছিল। আর আমি? আমি হয়তো কথায় খুব কম বলি। কিন্তু আমার ভেতরে একটা সত্য সবসময় পরিষ্কার, যে মেয়েটা আমার ফকির সময়ের ফকির বংশ জেনেও হাত ধরেছিল,তাই সফল ও বিফল সময়েও সেই হাতটাই আমি ধরে রাখতে চাই।

নারী দিবস মানে শুধু নারীর অধিকার না, আমার নবী (স.) স্পষ্টই তা বলে গেছেন এবং শিখিয়ে গেছেন নানা রকম দৃষ্টান্ত দিয়ে। 

নারী দিবস মানে এমন মানুষদের সম্মান করা যারা ভালোবাসা দিয়ে একজন মানুষের জীবন সুন্দর করে দিতে পারে। সুখ ও দুঃখে পাশে থাকতে পারে। খারাপ সময়গুলোকে একসাথে কাটাতে পারে। আমার জীবনে সেই মানুষটাই এমিলী।

আর সত্যি কথা বলতে, আমি হয়তো খুব বড় কিছু এখনো হতে পারিনি। হতে পারব কি না আল্লাহ তাআলা জানেন। কিন্তু আল্লাহ যদি কখনো আমাকে পৃথিবীর মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ দেন, তাহলে মানুষ যেন জানে, এই গল্পের পেছনে একজন নারীর বিশ্বাস ছিল। 

নারী দিবসে আমার প্রিয়তমা এমিলী, অভিবাদ তোমাকে। 

11 Circular Road,Dhanmondi,Dhaka

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

activeAlamin

আল-আমিন

একজন ডিজিটাল মার্কেটার, মেটা অ্যাডস এক্সপার্ট, ওয়েব ডেভেলপার এবং উদ্যোক্তা।

ফলো করুন