বাংলাদেশে সবচেয়ে অভাগা পেশাগুলোর মধ্যে শিক্ষকতা নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে। উন্নত দেশগুলোতে যেখানে এই পেশা সম্মান, ভালোবাসা ও মর্যাদার প্রতীক সেখানে আমাদের দেশে সেই মর্যাদা তো দূরে থাক মিনিমাম সম্মান ই দেওয়া হয়না। একটা স্কুল টিচার এর বেতন হওয়া উচিত সবচেয়ে বেশি। কারণ আপনার বাচ্চার প্রথম সামাজিকীকরণ তাদের হাত ধরেই হয়। তারাই ভবিষ্যতের ভিত মজবুদ করে। আমাদের দেশে না আছে শিক্ষকের মর্যাদা, না আছে যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ।
একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক মাস শেষে যে বেতন পান, তা দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে টিউশন, কোচিং বা অন্য কাজ করে সংসার চালান। মাদ্রাসার শিক্ষক দের অবস্থা আরো করুণ। অনেকে মাঠে বা দৈনিক মজুরি তে কাজও করে। অথচ তারাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করেন। এই বৈষম্যটা কেমন অমানবিক, তা একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায়।
আরও কষ্টের বিষয় হলো, এই শিক্ষকরা নিজেদের অধিকার দাবি করলেই যেন অপরাধী হয়ে যান। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বড্ড মলিন মুখে বুকের কোথাও একটু আশা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় আন্দোলন করেন, অথচ শেষমেশ পুলিশের লাঠিচার্জ, ধাক্কাধাক্কি আর অপমান সব কিছুই সহ্য করতে হয় তাদের। রাস্তায় যখন দেখি বাবার বয়সী শিক্ষকরা রাস্তায় বসে আছেন, চোখে পানি নিয়ে বলছেন “আমাদেরও বাঁচতে দিন”, তখন মনে হয় আমরা কেমন সমাজে বাস করছি?
একটা জাতির মেরুদণ্ড যদি হয় শিক্ষক, তাহলে সেই মেরুদণ্ডকে এতটা দুর্বল, অবহেলিত আর অপমানিত রাখা মানে গোটা জাতিকেই ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দেওয়া।