ধুলোমাখা শৈশব ও সতেজ পাট শাকের ঘ্রাণ

ন্যাংটাকালের দিনগুলা যেন তপ্ত রোদের সতেজ পাট শাকের মতো ছিল। মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা যখন গ্রামের জমিতে নিড়ানি দেওয়ার কাজ চলত। আমরা ছোটরা জমির আলত (আইলে) বসে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম কখন কৃষকের হাতের নিড়ানি থামবে। নিড়ানি দিয়ে ফেলে দেওয়া সেই বাড়তি শাকগুলোর ওপর আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়তাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে বেশ ভালো পরিমাণে শাক জমিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতাম। অনেক সময় সেই শাক আম্ম অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন আবার কখনো হয়তো রান্না হতো, গুরুও খাইতো মজা করে।

তবে একটা দৃশ্য এখনো চোখের সামনে ভাসে। কৃষক দিনের শুরুতে নিজের জন্য কিছু সেরা শাক আলাদা করে রাখতেন যা দিয়ে তিনি মাঠেই দুপুরের খাবার সারতেন। সেই রান্নায় আভিজাত্য ছিল না ছিল সামান্য তেলে সিদ্ধ করা পিছলা (পিচ্ছিল) টাইপের শাক। প্রচুর লবণ আর কাঁচা মরিচ কিংবা শুকনা মরিচের ঝালে সেই অতি সাধারণ শাক দিয়েই তারা গামলা ভরা ভাত রীতিমতো সাবার করে ফেলতেন। খুব ভোরে কাজে নামা এবং সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দেওয়া সেই মানুষগুলোর শরীরের রঙ রোদে পুড়ে কয়লা হয়ে যেত। আজ নিজের রান্নাঘরে পাট শাক রাঁধতে গিয়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

activeAlamin

আল-আমিন

লাইফলং লার্নার | সেল্ফ ডেভলপমেন্ট কোচ 

ফলো করুন

Receive the latest news

আপনার বিনজেসকে নতুন করে নিজের চোখে দেখতে + ইনকাম 2x+ করতে